Dr Mosabbir Gellary 2
Dr Mosabbir
শীতে বাড়বে অগ্নি দুর্ঘটনা, প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা
ডাঃ মোসাব্বির আহমাদ খান বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারী বিশেষজ্ঞ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমাদের দেশে শীতের আবির্ভাবের সাথে হাসপাতাল গুলোতে পোড়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখ যোগ্য হারে বাড়তে থাকে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে চলে অগ্নি দুর্ঘটনা। দেশে সরকারীভাবে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার বিশেষায়িত কেন্দ্র হল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গুলোতে প্রতিষ্ঠিত বার্ণ ইউনিট। শীতের সময় এই হাসপাতাল গুলোতে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হয় এবং প্রায়ই হাসপাতাল গুলোতে রোগীর স্থান সংকুলান হয় না। শীতে বাড়তি পোড়া রোগীর কারণঃ প্রধানতম কারণ দুর্ঘটনা। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এ সময় মানুষ বাড়তি উষ্ণতা পেতে চায়। এর প্রেক্ষিতে গরম পানি ব্যবহার, কিংবা খড় বা শুকনো পাতায় আগুন ধরিয়ে তাপ পোহানো, বা মাটির চুলার আগুন রান্নার পর পুরোপুরি না নিভিয়ে গরম ছাই রেখে সেখানে তাপ পোহানো, বিভিন্ন বস্তু গরম করে স্যাক নেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটে গিয়ে পুড়ে যেতে পারে। সাধারণত শহুরে পরিবেশের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে যেখানে শীতের তীব্রতা বেশি সেখানে এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। কারা বেশি আক্রান্ত হনঃ সব শ্রেনীর মানুষ ই কম বেশি আক্রান্ত হতে পারেন তবে সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় শিশুরা। এ ছাড়া বয়স্ক পুরুষ বা মহিলারা বেশি আক্রান্ত হন। গ্রামাঞ্চলে সদ্য সন্তান জন্মদানকারী প্রসূতি মহিলাদের মধ্যেও আক্রান্তের হার বেশি। শিশুরা আক্রান্ত হয় চঞ্চলতার দরুন, কিংবা তার দেখাশোনা করা ব্যক্তির অসতর্কতার দরুন। বয়স্ক পুরুষ ও মহিলারা এবং প্রসূতি মায়েরা তাপ পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনা বসত কাপড়ে আগুন লেগে আক্রান্ত হন। কোন ধরনের পোড়ায় আক্রান্ত হবার সম্ভবনা বেশিঃ এ সময় সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় স্ক্যাল্ড বা গরম পানি বা অন্যান্য গরম তরল জাতীয় পদার্থের মাধ্যমে পুড়ে যাওয়া রোগী। সাধারণত বাচ্চারা বা মহিলাগন এতে বেশি আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া সরাসরি আগুনে পুড়ে যাওয়া বা ফ্লেম বার্ণ, ছাইয়ের মাধ্যমে পোড়া বা এশ বার্ণ আক্রান্তের হারও এ সময় বেশি। কারেন্টে পুড়ে যাওয়া, গরম কোন পদার্থের সংস্পর্শে পুড়ে যাওয়া, কেমিক্যাল বার্ণ সহ অন্যান্য ধরনের পুড়ে যাওয়া রোগীও এ সময় পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিতসাঃ শরীরের কোন স্থানের কাপডে আগুন লাগলে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করা যাবে না, এতে বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আগুন আরো দ্রুত ছড়িয়ে পরবে এবং পুড়ে যাওয়ার পরিমান ও বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আগুন নেভানোর জন্য মাটিতে শুয়ে পড়ে গড়াগড়ি করা যেতে পারে কিংবা আসে পাশে অন্য কেউ থাকলে মোটা কাপর বা চাদর দিয়ে ঢেকে জাপটে ধরলে দ্রুত আগুন নিভে যাবে। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে পুড়ে যাওয়া জামা শরীর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পুড়ে যাওয়া স্থানে ১৫-২০ মিনিট ঢালতে হবে। কোন ভাবেই আক্রান্ত স্থানে বরফ, ফ্রিজের ঠান্ডা পানি, ডিমের সাদা অংশ, টুথ পেস্ট, চুন ইত্যাদি লাগানো যাবে না। বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে পানি ঢালার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে অতিরিক্ত পানি ঢালার কারণে ঠান্ডা না লেগে যায়। এরপর দ্রুত চাদর বা কম্বল দিয়ে গা ঢেকে দিতে হবে যাতে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে। হাতের কাছে এন্টিসেপ্টিক কোন অয়েনমেন্ট থাকলে সেটি পুড়ে যাওয়া স্থানে লাগানো যেতে পারে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। পুড়ে যাওয়ার পরিমান যত ছোটই হোক না কেন অবশ্যই চিকিতসকের পরামর্শ নিতে হবে। সম্ভব হলে বার্ণ ইউনিট আছে এরকম কোন হাসপাতাল বা একজন প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতিরোধে করনীয়ঃ আমাদের দেশে পোড়া রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। দীর্ঘদিন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় বিধায় চিকিৎসার খরচ ও একেবারে কম নয়। কাজেই অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারলে সেটি সর্বোত্তম। শীতকালে অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিম্নোক্ত কাজ গুলো করা যেতে পারে- ১। শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয় বিধায়, শিশুদের আগুন বা উত্তপ্ত জিনিস পত্র থেকে দূরে রাখতে হবে। শিশুদের নিয়ে রান্না ঘরে যাওয়া যাবে না, গরম কিছু রয়েছে এরকম স্থানে তাকে একা রেখে যাওয়া যাবে না ২। চা, কফি পানের সময় শিশুদের সাথে রাখা যাবে না। এসময় অসাবধানতাবসত গরম চা, কফি পড়ে গিয়ে শিশুর শরীর পুড়ে যেতে পারে ৩। দাহ্য কোন পদার্থ, দেয়াশলাই, লাইটার ইত্যাদি শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে ৪। গোসলের জন্য প্রয়োজনীয় গরম পানি সাবধানে পরিবহন করতে হবে। পাতিলে বা ছোট পাত্রে নেয়ার চেয়ে বালতি বা হাতল যুক্ত বড় পাত্রে পরিবহণ অধিক নিরাপদ ৫। মাটির চুলায় রান্নার পর চুলার ছাই ভাল ভাবে পানি দিয়ে নিভিয়ে রাখতে হবে এবং বড় ঢাকনা দিয়ে চুলা ঢেকে দিতে হবে ৬। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে খোলা স্থানে আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহানো যাবে না, প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে ৭। কাপড় শুকানোর জন্য চুলার আগুন জ্বালিয়ে রাখা পরিহার করতে হবে ৮। সদ্য সন্তান জন্মদানকারী মায়েদের শীত নিবারনের জন্য আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহানো যাবে না। গরম স্যাক দেয়ার দরকার হলে সাবধানে তাপমত্রা নিশ্চিত হয়ে স্যাক দিতে হবে ৯। গরম কোন জিনিস ধরার জন্য গ্লাভস বা আলাদা কাপড ব্যবহার করতে হবে, খালি হাতে ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে ১০। বাসায় সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলায় আগুন জ্বালানোর আগে বদ্ধ ঘরের জানালা খুলে দিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হবে, নিশ্চিত হতে হবে কোন গ্যাস লিকেজ আছে কিনা ১১। ইলেক্ট্রিক লাইন বছরে অন্তত দুইবার চেক করাতে হবে, এবং রিপেয়ার প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নিতে হবে। অব্যবহৃত সকেট প্লাস্টিক ক্যাপ বা টেপ দিয়ে ঢেকে দেয়া যেতে পারে ১২। সর্বোপরি অগুনে পোড়ার ক্ষতি এবং ভয়াবহতা সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে
বেড সোর বা শয্যা ক্ষতঃ জানার আছে অনেক কিছুই
পক্ষাঘাত গ্রস্থ রোগী যারা অন্যের সাহায্য ছাড়া নিজেদের হাত পা নড়া চড়া করতে পারে না, বিছানা থেকে উঠতে পারেন না, বা বসতে পারেন না তারা শরীরের পেছনের দিকে কোমরের নিজের অংশে এক ধরণের ক্ষততে আক্রান্ত হতে পারেন যাকে আমরা সাধারণ ভাষায় বেড সোর বা শয্যা ক্ষত নামে অভিহিত করে থাকি। দীর্ঘক্ষন একই অবস্থানে শুয়ে বা বসে থাকার ফলে সে স্থানের অস্থির উপর চাপ পরে, ফলে সে স্থানের চামড়ার রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে চামড়া ধীরে ধীরে নস্ট হয়ে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। শুধু যে শুয়ে থাকার ফলে এরকম হতে পারে, বিষয়টা তা নয়। দীর্ঘক্ষন একই অবস্থানে বসে থাকলে বসে থাকার স্থানেও একই রকম ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। কাজেই এ ধরণের ক্ষতকে বেড সোর না বলে প্রেসার সোর বলা উচিত। প্রেসার সোর কোথায় কোথায় হতে পারেঃ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় কোমড়ের নিচের দিকের অংশ বা স্যাক্রাল এরিয়া। এ ছাড়া পেল্ভিস আর থাই বোনের সংযোগ স্থল, নিতম্বের নিচের দিকের অংশ, পায়ের গোড়ালি, মাথার পেছনের দিকে যেখানে ভর দিয়ে আমরা শুয়ে থাকি বেশি প্রেসার সোর হয়ে থাকে। এ ছাড়াও শরীরের অন্যান্য প্রেসার পয়েন্ট যেখানে চামড়া অস্থির খুব কাছাকাছি থাকে এ সমস্ত স্থানে প্রেসার সোর হতে পারে। প্রেসার সোর কাদের হবার সম্ভবনা বেশিঃ ৪ টি ফ্যাক্টর এ ধরণের ক্ষতের জন্য দায়ী- Pressure বা চাপ, Friction বা ঘর্ষণ, Shear force বা আচমকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং Moisture বা আদ্রতা। এছাড়া এ রোগের রিস্ক ফ্যাক্ট্র গুলো হল- ১। প্যারালাইসিস বা প্যারেসিস ২। অপারেশন বা অন্য কোন কারণে বাধ্যতামূলক ভাবে একই অবস্থানে থাকা ৩ । বয়স্ক রোগী বিশেষত যাদের বয়স ৭০ এর বেশি ৪। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম- যেমন ডায়বেটিক রোগী, এনিমিয়া, অপুস্টিতে ভোগা রোগী ৫। মেরুদন্ডের আঘাতের ফলে শয্যাশায়ি ব্যক্তি ৬। প্রস্রাব বা পায়খানার কোন নিয়ন্ত্রন নেই এ ধরণের রোগী এ ছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশন করা হয়েছে এরকম ব্যক্তির অপারেশন চলাকালীন সময়ে সতর্কতা না নিলে, বা টাইট প্লাস্টার করা হলে, টাইট শু বা বুট একটানা বিরামহীন ভাবে পরে থাকলেও এর সম্ভবনা বেড়ে যায়। প্রেসার সোরের পর্যায় সমূহঃ চিকিৎসার সুবিধার্থে প্রেসার সোরকে বিভিন্ন পর্যায় বা স্টেজ এ ভাগ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত অঞ্চলে শুধু মাত্র চামড়ার রঙ পরিবর্তন, ফোস্কা দেখা দেয়। পর্যায়ক্রমে সেখান থেকে ক্ষত তৈরি হয়ে একদম শেষ পর্যায়ে এত গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় যে চামড়ার নিচের মাংশ, হাড় সব বাইরে বেরিয়ে আসে। লক্ষন সমুহঃ প্রাথমিক ভাবে আক্রান্ত অঞ্চলের চামড়ার রঙ পরিবর্তন হয়। আক্রান্ত অঞ্চল লাল হয়ে যায় এবং এ অবস্থা বেশ কিছুদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এরপর অত্র অঞ্চলে ফোস্কা দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে উপরের চামড়া মরে গিয়ে উঠে যায় এবং ঘা এর সৃষ্টি হয়। এর সাথে রোগীর জ্বর থাকতে পারে। চিকিতসাঃ প্রেসার সোর এর চিকিৎসা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল অন্যদিকে সময় সাপেক্ষ। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সেই সাথে প্রয়োজন আক্রান্ত রোগীর যথাযথ যত্ন নেয়া। প্রেসার সোর এর লক্ষন দেখা দিলে দ্রুত একজন শল্য চিকিতসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি বাড়িতেও রোগীর অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে যেমন- পুস্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে, মুখে খেতে না পারলে অনেক সময় নাকে নল দিয়েও খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়। সেই সাথে শোয়ার জন্য রোগীকে বাতাসে ফোলানো বিছানা বা নিউমেটিক বেড ব্যবহার করতে বলতে হবে এবং প্রতি ২ ঘন্টা পর পর রোগীর অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। যারা হুইল চেয়ারে চলাচল করেন তাদের অবশ্যই প্রতি আধা ঘন্টা পর পর একবার ৫-১০ সেকেন্ড এর জন্য বসা থেকে উঠতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রসাব বা পায়খানা সব সময় পরিস্কার রাখতে হবে, ভেজা কাপর, বিছানা, ডায়াপার ইত্যাদি সাথে সাথে পরিবর্তন করে দিতে হবে। ডায়বেটিস বা অন্যান্য সমস্যা থাকে সেগুলোর নিয়ন্ত্রন করতে হবে। ক্ষত বেশি হয়ে মাংশ বা হাড় বেরিয়ে গেলে দেরি না করে একজন প্লাস্টিক সার্জনের সাথে পরামর্শ করতে হবে। এভাবে সকলের সম্মিলিত চেস্টায় প্রেসার সোর আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন যাত্রার মান বাড়ানো সম্ভব।
ত্বক ক্যান্সার এর ধরণ, লক্ষণ ও করনীয়
ত্বকের ক্যান্সার এ আক্রান্তের হার নেহায়েত কম নয়। ক্যান্সার সমূহের মধ্যে সমস্ত পৃথিবীতে আক্রান্তের হারের দিক থেকে এর অবস্থান ১৭ তম। আমাদের দেশে বাৎসরিক আক্রান্ত হার কত এ বিষয়ে পরিসংখ্যান না থাকলেও, বর্তমান সময়ে আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়ে চলছে। ত্বক ক্যান্সার এর কারনঃ ত্বক ক্যান্সারের প্রধান কারণ সুর্যের অতিবেগুনী রশ্মির বিকিরণ। যারা দীর্ঘক্ষন সরাসরি সূর্যের আলোতে কাজ করেন যেমন- কৃষিকাজ তাদের আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে যেগুলো ক্যান্সার আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় যেমন- ১। অতিরিক্ত ফর্সা ত্বক ২। বয়স- মধ্যবয়স্ক থেকে বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে সংক্রমনের হার বেশি। ৩। ধূমপান ও তামাক সেবন ৪। ভাইরাস যেমন হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস এর সংক্রমণ থেকে স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা হতে পারে ৫। পরিবেশগত কারণ বা এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাক্টর- যেমন আয়োনাইজিং রেডিয়েশন, এক্স রে, আর্সেনিক, হেভি মেটাল জাতীয় যৌগ প্রভৃতির সান্নিধ্যে থাকা ৬। দীর্ঘ দিনের জটিল ঘা বা ক্ষত ৭। জেনেটিক ফ্যাক্টর ১০। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় এরকম ওষুধ প্রভৃতি প্রধান ত্বক ক্যান্সারের ধরনঃ মোটা দাগে ত্বকের ক্যান্সার গুলোকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়- ১। মেলানোমা ক্যান্সার ২। নন মেলানোমা ক্যান্সার মেলানোমা ক্যান্সার বলতে ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমাকে বোঝানো হয়। নন মেলানোমা ক্যান্সার বলতে মূলত ব্যাসাল সেল কারসিনোমা এবং স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা কে বুঝানো হয়। ত্বকের ক্যান্সার সমূহের মধ্যে এই তিনটি ই প্রধান ক্যান্সার। এ ছাড়াও মার্কেল সেল কারসিনোমা, সিবাসিয়াস কার্সিনোমা হয়ে থাকে তবে এর হার খুবই অল্প। ব্যাসাল সেল কারসিনোমাঃ ত্বকের ক্যান্সার সমূহের মধ্যে ব্যাসাল সেল কারসিনোমা বা BCC সবচেয়ে কমন। এটি খুব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এর বিভিন্ন ধরণ আছে, যাদের মধ্যে নডিউলার ভ্যারাইটি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। আক্রান্ত স্থানে গুটির মত শুরুতে দেখা দেয়, এবং আস্তে আস্তে এর উপর ক্ষতের সৃষ্টি হয়, এবং সেই ক্ষত আক্রান্ত স্থানের ভেতরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ইঁদুর যেভাবে গর্ত খুড়ে থাকে অনেকটা সেভাবে আক্রান্ত স্থানের ভেতরের দিকে ছড়িয়ে প্রবণতার দরুন একে ‘রডেন্ট আলসার’ ও বলা হয়ে থাকে। সাধারন ভাবে বয়স্ক ব্যক্তিরাই বেশি আক্রান্ত হন এবং ৮৫-৯০% ক্ষেত্রে হেড ও নেক এরিয়াতে এটি হয়ে থাকে। চোখের পাতা, গাল, কপাল, উপরের ঠোঁট এসব যায়গায় আক্রন্তের হার সবচেয়ে বেশি। ক্যান্সার হলেও এটির শরীরের দুরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পরার ঘটনা খুবি বিরল। স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমাঃ ত্বকের ক্যান্সার সমূহের মধ্যে দ্বিতীয় আবস্থানে রয়েছে স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা বা SCC। এটিও বয়স্ক ব্যাক্তিদের বেশি হয় এবং এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত হবার গড় বয়স ৬৫ বছর। শরীরের মুখ, হাত, বুক, পিঠ, পা এসব স্থানে বেশি হয়। চামড়ায় লালচে ফুস্কুরি থেকে শুরু করে বড় ফুলকপির ফুলের মত বিভিন্ন ভাবে এটি প্রকাশ পেতে পারে এবং দ্রুত বড় হতে থাকে। ব্যাসাল সেল কারসিনোমার চেয়ে এটি বেশি আক্রমণাত্মক ধরনের হয়ে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যে শরীরের দুরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পরার প্রবনতা রয়েছে। দুরবর্তী স্থানের মধ্যে স্থানীয় লসিকা গ্রন্থি, ফুসফুস, লিভার, হাড় এবং মস্তিস্কে এটি ছড়িয়ে পরতে পারে। কাজেই দ্রুত রোগ নির্নয় এবং চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমাঃ ত্বকের ক্যান্সার সমূহের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হল ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা। যদিও এটি সমস্ত ত্বকের ক্যান্সার এর মাত্র ৪%, তথাপি ত্বক ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুর প্রায় ৭৫% ই হয় ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমার কারণে। ত্বকের মেলানোসাইট নামক এক ধরনের কোষ থেকে এর উৎপত্তি। শরীরের ধর, হাত, পায়ের গোড়ালি, মাথা, চোখ প্রভৃতি অঙ্গ বেশি আক্রান্ত হয়। এ ধরনের রোগীরা সাধারণত তাদের শরীরে আগে থেকে থাকা তিল, বা জন্মদাগ, বা অন্য কোন ত্বকের সমস্যা থেকে তাদের রোগ হয়েছে বলে হিস্ট্রি দিয়ে থাকেন। স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমার মত এটিও দুরবর্তী স্থানে ছড়ায়। কখন সতর্ক হবেন এবং চিকিতসকের পরামর্শ নিবেন? ত্বক ক্যান্সার থেকে বাঁচতে হলে সতর্ক থাকতে হবে। ত্বকে আকস্মিক কোন পরিবর্তন দেখা দিলে বিশেষ করে মুখমন্ডলে কোন ধরনের চাকা দেখা দিলে, দীর্ঘদিন ধরে থাকা কোন চাকায় হঠাত ব্যাথা হলে, ক্ষতের সৃষ্টি হলে, শরীরের কোন স্থানের ক্ষত কয়েক মাসেও না শুকালে, তিল বা আচিল এ হঠাত পরিবর্তন হলে যেমন- খুব দ্রুত বড় হয়ে যাওয়া, রঙের আকস্মিক পরিবর্তন, হঠাত করে এর আকৃতিগত পরিবর্তন, ব্যাথা হওয়া, অতিরিক্ত চুল্কানো এবং এর ফলে রক্তপাত হওয়া ইত্যাদি দেখা দিলে দ্রুত একজন চিকিতসকের পরামর্শ নিবেন। প্রাথমিক ভাবে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। ওষুধ খাবার পরেও অবস্থার উন্নতি না হলে সার্জারী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। রোগ নির্নয়ঃ বায়োপসি করে ত্বক ক্যান্সার নির্নয় করা সম্ভব। বায়োপসি করে ক্যান্সারের ধরণ,কোন পর্জায়ে আছে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়। চিকিতসাঃ ত্বক ক্যান্সার চিকিৎসার বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। সঠিক চিকিৎসার জন্য রোগ নির্নয়ের পর মাল্টিডিসিপ্লিনারী এপ্রোচ এর মাধ্যমে চিকিৎসা এগিয়ে নিতে হবে। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ক্রায়োথেরাপি, ইলেক্ট্রোকিউরেটেজ, সার্জারীর মধ্যে থেকে রোগীর অবস্থা, পছন্দ,সর্বপরি রোগের জন্য যেটি সর্বোত্তম হবে এরকম একটি পদ্ধতি বেছে নেয়া উচিত। প্রতিরোধে করনীয়ঃ ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধে নিম্নের ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে- ১। সরাসরি সুর্যালোক পরিহার করতে হবে- বিশেষ করে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্জন্ত যখন সুর্যের তাপ প্রখর থাকে তখন ছায়ায় থাকার চেস্টা করতে হবে ২। বাইরে বের হলে অবশ্যই সান স্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা উচিত। কমপক্ষে SPF 30 মানের লোশন ব্যবহার করতে হবে যেটি সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি কে বাধা দিতে সক্ষম। ৩। বাইরে বের হলে শরীর ভাল ভাবে ঢেকে বের হতে হবে যাতে সুর্যের আলোকে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ ক্ষেত্রে ভাল মানের সানগ্লাস, হ্যাট, ছাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে। ৪। রেডিয়েশন জোন এ যারা কাজ করেন তাদের রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষার জন্য গগলস, শিল্ড ব্যবহার করতে হবে ৫। আর্সেনিক মুক্ত পানি পান ও ব্যবহার করতে হবে। ৬। হেভি মেটালের সংস্পর্শে থাকতে হয় এরকম পরিবেশে যারা কাজ করেন যেমন রঙের ফ্যাক্টরি তাদের গ্লাভস, প্রটেক্টিভ গিয়ার ব্যবহার করতে হবে ৭। জটিল ও পুরাতন ক্ষতের চিকিৎসায় বিলম্ব করা যাবে না ৮। সর্বোপরি নিজের ত্বকের যত্ন নিতে হবে, ত্বকে কোন ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিতসকের পরামর্শ নিতে হবে
ডায়বেটিস রোগীদের পায়ের যত্ন
ডায়বেটিস রোগীদের পায়ের যত্ন ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীদের পায়ের সমস্যা একটি সাধারণ সমস্যা। রক্তে সুগার এর পরিমান অনিয়ন্ত্রিত থাকলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে পায়ের রক্তনালী এবং স্নায়ুকে দুর্বল করে ফেলে। এই স্নায়বিক দুর্বলতার কারণে রোগী তার পায়ে অবশ অনুভব করে যে কারণে পায়ের কোন ধরণের আঘাত সে বুঝতে পারে না। আর এভাবেই সাধারণ একটি আঘাত থেকেই বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ডায়বেটিস এর কারণে পায়ে যে ক্ষতের তৈরি হয়, সময় মত চিকিতসা না করলে সেই ক্ষতের জন্য পায়ের আঙ্গুল বা আক্রান্ত অংশ বিশেষ কেটে ফেলতে হতে পারে। সারা বিশ্বে এই অঙ্গহানীর হার প্রতি ১ লাখে প্রায় ১০০ জন যেটি নেহায়াত কম নয়। তবে সঠিক সময়ে রোগ নির্নয় ও চিকিতসা করলে প্লাস্টিক সার্জারীর মাধ্যমে অঙ্গ অপসারণ ছাড়াই এর চিকিতসা সম্ভব। ডায়বেটিস রোগীর পায়ের যত্নঃ ১। প্রতিদিন পা ভাল করে পরীক্ষা করে দেখা- কোন ধরণের ফুলে যাওয়া, ফোস্কা পরা, লাল হয়ে যাওয়া, ব্যাথা, কিংবা নখের কোন ধরণের পরিবর্তন আছে কিনা বুঝতে চেস্টা করা। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আয়না ব্যবহার করা যেতে পারে। ২। পা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা- কুসুম গরম পানিতে প্রতিদিন ভাল করে পা পরিস্কার করতে হবে এবং পরিস্কারের পর পা ভাল করে শুকিয়ে ফেলতে হবে, কোন অবস্থাতেই ভেজা রাখা যাবে না। চামড়ায় কোন ধরণের ফাটল দেখা দিলে ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। ৩। নরম, আরামদায়ক ও ভালো ভাবে ফিট হয় এরকম জুতা ব্যবহার করতে হবে। জুতা ব্যবহার এর সময় অবশ্যই সাথে নরম, সুতি আরামদায়ক মোজা পরতে হবে। ৪। নিয়মিত পায়ের নখ কাটতে হবে যাতে নখের ফাঁকে ময়লা আটকে না থাকে। নখ কাটার পর নখের ধারালো অংশ ঘষে মসৃণ করতে হবে যাতে নখের আঘাতে কোন ধরণের ক্ষতের সৃষ্টি না হয়। ৫। পায়ের শক্ত হয়ে যাওয়া অংশ (পায়ের কড়া) নিজে নিজে কাটা যাবে না। চিকিতসকের পরামর্শ নিতে হবে। ৬। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পা ভাল করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে ৭। দীর্ঘক্ষন বসে থাকার সময় পা কিছুটা উচুতে রাখা যেতে পারে, এ ক্ষেত্রে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য মাঝে মাঝে পায়ের আঙ্গুল গুলো নাড়তে হবে। ৮। ব্যায়ামের সময় পায়ের যাতে কোন ক্ষতি না হয় এ ধরনের ব্যায়াম করতে হবে যেমন- হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতারকাটা ইত্যাদি। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেনঃ নিম্নলিখিত লক্ষনসমূহ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে- ১। পায়ে ব্যাথা, স্বাভাবিক কাজ কর্মের সময় উরু, বা পায়ের মাংশপেশিতে ব্যাথা বা টান লাগা ২। পায়ের পাতা জ্বালাপোড়া করা, বা ব্যাথা ৩। পায়ের অনুভুতি কমে যাওয়া, ঠাণ্ডা বা গরম অনুভুতি বুঝতে না পারা ৪। ধীরে ধীরে পায়ের আকৃতির পরিবর্তন হওয়া ৫। পায়ের নিচের অংশ, পায়ের পাতা ও আঙ্গুলের লোম উঠে যাওয়া ৬। পায়ের চামড়া ফেটে যাওয়া ৭। পায়ের কোন অংশ হঠাত লাল হয়ে যাওয়া, গরম অনুভুত হওয়া বা ব্যাথা হওয়া ৮। পায়ের নখ মোটা ও হলদেটে হয়ে যাওয়া ৯। পায়ের আঙ্গুলের ফাকে ফাঙ্গাস সংক্রমন হওয়া ১০। পায়ে কোন ধরণের ফোস্কা পরা, ক্ষত সৃষ্টি হওয়া, নখের একপাশ বা দুইপাশ ভেতরে ধুকে যাওয়া একটু সচেতন হলে, সঠিক ভাবে পায়ের যত্ন নিলে এবং নিয়মিত ডাক্তারের তত্বাবধানে থাকলে খুব সহজেই এ ধরণের জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়।
অপারেশন পরবর্তী সংক্রমণ প্রতিরোধে করনীয়
রোগীদের নানাবিধ সমস্যার কারণে অপারেশন বা সার্জারীর প্রয়োজন হতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে অপারেশন পরবর্তী সময়ের মাঝে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে রোগীর সংক্রমণের ঝুকি থাকে। কিভাবে এ সংক্রমণ এড়ানো যায় আজকে সংক্ষেপে আমরা এ বিষয়গুলো জানার চেস্টা করব। অপারেশন এর পূর্বে করনীয়ঃ প্রথমেই সংক্রমণের ঝুকি আছে যাদের তাদের বাছাই করতে হবে। বয়স্ক রোগী, যাদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, ডায়বেটিস এ আক্রান্ত রোগী, অতিরিক্ত মেদ বা স্থুলতা, ধূমপায়ী ব্যক্তি, শারীরিক অপুষ্টি, রক্ত শুন্যতা, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ যারা দীর্ঘদিন সেবন করেন এ ধরণের রোগীদের অপারেশন পরবর্তীতে ইনফেকশন এ আক্রান্ত হবার প্রবনতা বেশি। অপারেশন এর আগে এ ধরণের রোগী বাছাই করে তাদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অপারেশনের কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ পুর্বে ধূমপান বন্ধ করতে হবে। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন করতে হবে। রক্ত শুন্যতা, অপুস্টি থাকলে সেগুলোর চিকিৎসা করতে হবে। স্টেরয়েড সেবন যারা করেন তাদের ওষুধ চিকিতসকের পরামর্শে বন্ধ করা যেতে পারে। অপারেশনের দিন অপারেশন থিয়েটারের প্রবেশের পুর্বে ভাল ভাবে সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে। অপারেশনের স্থানে চুল থাকলে সে স্থান শেভ না করাই শ্রেয়, প্রয়োজন হলে চুল ক্লিপিং করা যেতে পারে। অপারেশন এর সময় করনীয়ঃ অপারেশন জনিত ইনফেকশন প্রতিরোধের অন্যতম পূর্ব শর্ত হল অপারেশন থিয়েটার এটিকেট মেনে চলা। অপারেশন থিয়েটার, সার্জিকাল যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত ভাবে জীবাণু মুক্ত করতে হবে। বাইরের জামা-কাপড়, স্যান্ডেল নিয়ে কোন ভাবেই থিয়েটারে প্রবেশ করা যাবে না। সম্ভব হলে ডিস্পোজেবল গাউন ব্যবহার করতে হবে। শুধু মাত্র থিয়েটারের জন্য নির্ধারিত ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয় নিয়ম মেনে থিয়েটারে প্রবেশ করবে, অন্য কেউ নয়। এ ছাড়া অপারেশন চলাকালীন রোগীকে ভাল ভাবে এন্টিসেপ্টিক ওয়াশ দিতে হবে, অনেক সময় ডাবল গ্লাভস ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। অপারেশন এর ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পূর্বে প্রোফাইলেক্টিক এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অপারেশন এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এক ডোজ এন্টিবায়োটিক দেয়ার দরকার হতে পারে। ইনফেকশন প্রতিরোধে রোগীর ডিহাইড্রেশন যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি অক্সিজেন স্যাচুরেশন ও ঠিক রাখা জরুরী। অপারেশন পরবর্তী সময় করনীয়ঃ রোগীর ড্রেসিং এবং কোন কারণে ড্রেন দেয়ার দরকার হলে সেগুলোর যথাযথ কেয়ার নিতে হবে। ড্রেসিং ভিজে গেলে দ্রুততম সময়ে পরিবর্তন করে দিতে হবে। প্রস্রাবের রাস্তায় কোন নল দেয়া থাকলে সেটির, ইঞ্জেকশন দেয়ার ক্যানুলা সাইট এর যত্ন নিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুজায়ী এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে, এবং ড্রেসিং পরিবর্তন করতে হবে। অপারেশন এর পর রোগীর সাথে ১/২ জনের বেশি মানুষ যেন কোন ভাবেই না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রোগীর কাছে গেলে অবশ্যই ভাল হাবে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করে যেতে হবে। দর্শনার্থির সংখ্যা যত কম হবে ইনফেকশন এর সম্ভবনাও তত কম থাকবে। অপারেশন পরবর্তী ইনফেকশন একটি মারাত্মক সমস্যা। এ কারণে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সকলের সম্মিলিত চেস্টার মাধ্যমে ইনফেকশন প্রতিরোধ সম্ভব।
অগ্নি দুর্ঘটনায় শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়াঃ মৃত্যুর কারণ, চিকিতসা ও প্রতিকার
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাস্থ বেইলী রোডে রেস্টুরেন্টে অগ্নিকান্ডে প্রায় অর্ধশত মানুষের প্রানহানী ঘটেছে । এদের অধিকাংশেরই মৃত্যুর মূল কারণ ছিল আগুনে শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া বা ‘ইনহেলেশন ইনজুরি’। কিভাবে বুঝবেন শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিনা? অগ্নিকান্ডে শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। অগ্নিকান্ডের ফলে শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিনা কিছু লক্ষন দেখে এ সম্পরকে ধারনা লাভ করা যায় যেমন- বদ্ধ কোন স্থানে আগুন লাগা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিক্টিম কে অজ্ঞান অবস্থায় আগুন লাগার স্থানে পরে থাকতে দেখা যায় কিংবা উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয় মুখমন্ডল, মাথার চুল, আই ব্রো, নাকের লোম পুড়ে যাওয়া চোখ ও মুখের চারপাশ, ঠোঁট সহ সমগ্র মুখমন্ডল ফুলে যাওয়া রোগীর শ্বাসকস্ট হওয়া, নিশ্বাসের সাথে শো শো শব্দ করা গলার স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া কাশি অথবা থুতুর সাথে কালো ময়লা যাওয়া, জিহবা কালো হয়ে যাওয়া এ সমস্ত লক্ষন দেখা দিলে মোটামুটি ধরে নেয়া যায় যে রোগীর শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং বিলম্ব না করে দ্রুত চিকিতসা শুরু করে দিতে হয়। রোগী মৃত্যুর কারণঃ বদ্ধ স্থানে আগুন লাগার ফলে সেখান থেকে দ্রুত বের হতে না পারলে একদিকে যেমন রোগীর চামড়া আগুনে পুড়ে যায়, অন্যদিকে নিশ্বাসের সাথে আগুনে সৃষ্ট গরম ধোঁয়া শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে শ্বাসনালী পুড়িয়ে ফেলে। পাশা পাশি বদ্ধ স্থানে আগুন লাগার ফলে সেখান কার অক্সিজেন খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড এর আধিক্য দেখা দেয়। এ ছাড়া কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড ইত্যাদি বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয় যা নিশ্বাসের সাথে ভেতরে প্রবেশ করে জটিলতা সৃষ্টি করে এর ফলে রোগীর মৃত্যু ঘটে থাকে। চিকিতসাঃ এ ধরনের রোগীকে খুব দ্রুত বার্ণ ইউনিট আছে এরকম হাসপাতালে নিতে হবে। একদম শুরুর দিকে চিকিতসা শুরু করতে পারলে রোগীর বেচে যাওয়ায় সম্ভবনা অনেক বেড়ে যায়। উপরে যে লক্ষন গুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলো দেখা দিতে একটু সময় লাগে এবং সব রোগীর ক্ষেত্রে সব লক্ষন নাও দেখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অধিক সতর্কতা যেমন মুখ মন্ডল পুড়ে গেলে বা মাথার চুল, আই ব্রো ইত্যাদি পুড়ে গেলে, রোগীর অন্যান্য লক্ষন না থাকলেও সতর্কতার সাথে চিকিতসা শুরু করতে হবে। প্রতিকারঃ অগ্নিকান্ডের ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারাই এর সব চেয়ে বড় প্রতিকার। এজন্য সব সময় সাবধানতা অবলম্বন জরুরী। বিশেষ করে আবদ্ধ কোন স্থানে কাজ করার সময় চোখ কান খোলা রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ নিম্নরূপ- ১। দীর্ঘদিন দরজা জানলা বন্ধ থাকা ঘরে আগুন না জ্বালানো। এ ক্ষেত্রে আগে দরজা জানলা খুলে দিয়ে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক হলে পরে প্রয়োজন মত আগুন জালানো উচিত। ২। রেস্তুরেন্ট্ শপিং মল, শিক্ষা প্রতিস্থান, হাসপাতাল কিনবা কর্মস্থলে পর্জাপ্ত অগ্নি নিরপাবক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ইমার্জেন্সির জন্য আলাদা বহির্গমন পথের সুযোগ রাখা ২। বাসাবাড়ি, কলকারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার, কেমিকেল বা তেলের ব্যারেল ইত্যাদি নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখা এবং আগুন আছে এরকম স্থান থেকে দূরে যথাযথ স্থানে সংরক্ষণ করা ৩। ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্জায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ৪। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি করা
অপারেশনের পরে রোগীদের হাসিমুখ, একজন সার্জন এর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর নেই। আলহামদুলিল্লাহ।
খেলতে গিয়ে কেটে যাওয়া ডান হাতের মধ্যম আংগুল শুরুতে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় টান ধরে বাঁকা হয়ে যায়। ছেলেটি এসেছিল তার এইচ এস সি পরীক্ষার পর হাতের আঙ্গুল সোজা করতে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত দীর্ঘদিন বাঁকা থাকার দরুন আঙ্গুলের অস্থি সন্ধি একসাথে জোড়া লেগে যায় যেটি সোজা করা কস্ট সাধ্য এবং এর ফলে আঙ্গুল সোজা হলেও কার্যক্ষমতা নস্ট হবার সম্ভবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে অস্থিসন্ধি আলাদা ছিল। আলহামদুলিল্লাহ অপারেশন মাধ্যমে হাতের বেঁকে যাওয়া আঙ্গুল সোজা করতে সক্ষম হই কোন জটিলতা ছাড়াই। অপারেশনের পরে রোগীদের হাসিমুখ, একজন সার্জন এর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর নেই। আলহামদুলিল্লাহ।