অপারেশন পরবর্তী সংক্রমণ প্রতিরোধে করনীয়

রোগীদের নানাবিধ সমস্যার কারণে অপারেশন বা সার্জারীর প্রয়োজন হতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে অপারেশন পরবর্তী সময়ের মাঝে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে রোগীর সংক্রমণের ঝুকি থাকে। কিভাবে এ সংক্রমণ এড়ানো যায় আজকে সংক্ষেপে আমরা এ বিষয়গুলো জানার চেস্টা করব।

 

অপারেশন এর পূর্বে করনীয়ঃ

প্রথমেই সংক্রমণের ঝুকি আছে যাদের তাদের বাছাই করতে হবে। বয়স্ক রোগী, যাদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, ডায়বেটিস এ আক্রান্ত রোগী, অতিরিক্ত মেদ বা স্থুলতা, ধূমপায়ী ব্যক্তি, শারীরিক অপুষ্টি, রক্ত শুন্যতা, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ যারা দীর্ঘদিন সেবন করেন এ ধরণের রোগীদের অপারেশন পরবর্তীতে ইনফেকশন এ আক্রান্ত হবার প্রবনতা বেশি। অপারেশন এর আগে এ ধরণের রোগী বাছাই করে তাদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অপারেশনের কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ পুর্বে ধূমপান বন্ধ করতে হবে। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন করতে হবে। রক্ত শুন্যতা, অপুস্টি থাকলে সেগুলোর চিকিৎসা করতে হবে। স্টেরয়েড সেবন যারা করেন তাদের ওষুধ চিকিতসকের পরামর্শে বন্ধ করা যেতে পারে। অপারেশনের দিন অপারেশন থিয়েটারের প্রবেশের পুর্বে ভাল ভাবে সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে। অপারেশনের স্থানে চুল থাকলে সে স্থান শেভ না করাই শ্রেয়, প্রয়োজন হলে চুল ক্লিপিং করা যেতে পারে।

অপারেশন এর সময় করনীয়ঃ

অপারেশন জনিত ইনফেকশন প্রতিরোধের অন্যতম পূর্ব শর্ত হল অপারেশন থিয়েটার এটিকেট মেনে চলা। অপারেশন থিয়েটার, সার্জিকাল যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত ভাবে জীবাণু মুক্ত করতে হবে। বাইরের জামা-কাপড়, স্যান্ডেল নিয়ে কোন ভাবেই থিয়েটারে প্রবেশ করা যাবে না। সম্ভব হলে ডিস্পোজেবল গাউন ব্যবহার করতে হবে। শুধু মাত্র থিয়েটারের জন্য নির্ধারিত ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয় নিয়ম মেনে থিয়েটারে প্রবেশ করবে, অন্য কেউ নয়। এ ছাড়া অপারেশন চলাকালীন রোগীকে ভাল ভাবে এন্টিসেপ্টিক ওয়াশ দিতে হবে, অনেক সময় ডাবল গ্লাভস ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। অপারেশন এর ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পূর্বে প্রোফাইলেক্টিক এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অপারেশন এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এক ডোজ এন্টিবায়োটিক দেয়ার দরকার হতে পারে। ইনফেকশন প্রতিরোধে রোগীর ডিহাইড্রেশন যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি অক্সিজেন স্যাচুরেশন ও ঠিক রাখা জরুরী।

অপারেশন পরবর্তী সময় করনীয়ঃ

রোগীর ড্রেসিং এবং কোন কারণে ড্রেন দেয়ার দরকার হলে সেগুলোর যথাযথ কেয়ার নিতে হবে। ড্রেসিং ভিজে গেলে দ্রুততম সময়ে পরিবর্তন করে দিতে হবে। প্রস্রাবের রাস্তায় কোন নল দেয়া থাকলে সেটির, ইঞ্জেকশন দেয়ার ক্যানুলা সাইট এর যত্ন নিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুজায়ী এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে, এবং ড্রেসিং পরিবর্তন করতে হবে। অপারেশন এর পর রোগীর সাথে ১/২ জনের বেশি মানুষ যেন কোন ভাবেই না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রোগীর কাছে গেলে অবশ্যই ভাল হাবে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করে যেতে হবে। দর্শনার্থির সংখ্যা যত কম হবে ইনফেকশন এর সম্ভবনাও তত কম থাকবে।

অপারেশন পরবর্তী ইনফেকশন একটি মারাত্মক সমস্যা। এ কারণে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সকলের সম্মিলিত চেস্টার মাধ্যমে ইনফেকশন প্রতিরোধ সম্ভব।

 

Dr. Mosabbir Ahmad Khan – Expert Plastic Surgeon

ধানমন্ডি ক্লিনিক (প্রাঃ) লিঃ

গ্রীন হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব

Dr. Mosabbir© 2024 Developed by ClixorBD