ডায়বেটিস রোগীদের পায়ের যত্ন
ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীদের পায়ের সমস্যা একটি সাধারণ সমস্যা। রক্তে সুগার এর পরিমান অনিয়ন্ত্রিত থাকলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে পায়ের রক্তনালী এবং স্নায়ুকে দুর্বল করে ফেলে। এই স্নায়বিক দুর্বলতার কারণে রোগী তার পায়ে অবশ অনুভব করে যে কারণে পায়ের কোন ধরণের আঘাত সে বুঝতে পারে না। আর এভাবেই সাধারণ একটি আঘাত থেকেই বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
ডায়বেটিস এর কারণে পায়ে যে ক্ষতের তৈরি হয়, সময় মত চিকিতসা না করলে সেই ক্ষতের জন্য পায়ের আঙ্গুল বা আক্রান্ত অংশ বিশেষ কেটে ফেলতে হতে পারে। সারা বিশ্বে এই অঙ্গহানীর হার প্রতি ১ লাখে প্রায় ১০০ জন যেটি নেহায়াত কম নয়। তবে সঠিক সময়ে রোগ নির্নয় ও চিকিতসা করলে প্লাস্টিক সার্জারীর মাধ্যমে অঙ্গ অপসারণ ছাড়াই এর চিকিতসা সম্ভব।
ডায়বেটিস রোগীর পায়ের যত্নঃ
১। প্রতিদিন পা ভাল করে পরীক্ষা করে দেখা- কোন ধরণের ফুলে যাওয়া, ফোস্কা পরা, লাল হয়ে যাওয়া, ব্যাথা, কিংবা নখের কোন ধরণের পরিবর্তন আছে কিনা বুঝতে চেস্টা করা। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আয়না ব্যবহার করা যেতে পারে।
২। পা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা- কুসুম গরম পানিতে প্রতিদিন ভাল করে পা পরিস্কার করতে হবে এবং পরিস্কারের পর পা ভাল করে শুকিয়ে ফেলতে হবে, কোন অবস্থাতেই ভেজা রাখা যাবে না। চামড়ায় কোন ধরণের ফাটল দেখা দিলে ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩। নরম, আরামদায়ক ও ভালো ভাবে ফিট হয় এরকম জুতা ব্যবহার করতে হবে। জুতা ব্যবহার এর সময় অবশ্যই সাথে নরম, সুতি আরামদায়ক মোজা পরতে হবে।
৪। নিয়মিত পায়ের নখ কাটতে হবে যাতে নখের ফাঁকে ময়লা আটকে না থাকে। নখ কাটার পর নখের ধারালো অংশ ঘষে মসৃণ করতে হবে যাতে নখের আঘাতে কোন ধরণের ক্ষতের সৃষ্টি না হয়।
৫। পায়ের শক্ত হয়ে যাওয়া অংশ (পায়ের কড়া) নিজে নিজে কাটা যাবে না। চিকিতসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৬। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পা ভাল করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে
৭। দীর্ঘক্ষন বসে থাকার সময় পা কিছুটা উচুতে রাখা যেতে পারে, এ ক্ষেত্রে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য মাঝে মাঝে পায়ের আঙ্গুল গুলো নাড়তে হবে।
৮। ব্যায়ামের সময় পায়ের যাতে কোন ক্ষতি না হয় এ ধরনের ব্যায়াম করতে হবে যেমন- হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতারকাটা ইত্যাদি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেনঃ
নিম্নলিখিত লক্ষনসমূহ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে-
১। পায়ে ব্যাথা, স্বাভাবিক কাজ কর্মের সময় উরু, বা পায়ের মাংশপেশিতে ব্যাথা বা টান লাগা
২। পায়ের পাতা জ্বালাপোড়া করা, বা ব্যাথা
৩। পায়ের অনুভুতি কমে যাওয়া, ঠাণ্ডা বা গরম অনুভুতি বুঝতে না পারা
৪। ধীরে ধীরে পায়ের আকৃতির পরিবর্তন হওয়া
৫। পায়ের নিচের অংশ, পায়ের পাতা ও আঙ্গুলের লোম উঠে যাওয়া
৬। পায়ের চামড়া ফেটে যাওয়া
৭। পায়ের কোন অংশ হঠাত লাল হয়ে যাওয়া, গরম অনুভুত হওয়া বা ব্যাথা হওয়া
৮। পায়ের নখ মোটা ও হলদেটে হয়ে যাওয়া
৯। পায়ের আঙ্গুলের ফাকে ফাঙ্গাস সংক্রমন হওয়া
১০। পায়ে কোন ধরণের ফোস্কা পরা, ক্ষত সৃষ্টি হওয়া, নখের একপাশ বা দুইপাশ ভেতরে ধুকে যাওয়া
একটু সচেতন হলে, সঠিক ভাবে পায়ের যত্ন নিলে এবং নিয়মিত ডাক্তারের তত্বাবধানে থাকলে খুব সহজেই এ ধরণের জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়।