সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাস্থ বেইলী রোডে রেস্টুরেন্টে অগ্নিকান্ডে প্রায় অর্ধশত মানুষের প্রানহানী ঘটেছে । এদের অধিকাংশেরই মৃত্যুর মূল কারণ ছিল আগুনে শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া বা ‘ইনহেলেশন ইনজুরি’।
কিভাবে বুঝবেন শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিনা?
অগ্নিকান্ডে শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। অগ্নিকান্ডের ফলে শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিনা কিছু লক্ষন দেখে এ সম্পরকে ধারনা লাভ করা যায় যেমন-
- বদ্ধ কোন স্থানে আগুন লাগা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিক্টিম কে অজ্ঞান অবস্থায় আগুন লাগার স্থানে পরে থাকতে দেখা যায় কিংবা উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়
- মুখমন্ডল, মাথার চুল, আই ব্রো, নাকের লোম পুড়ে যাওয়া
- চোখ ও মুখের চারপাশ, ঠোঁট সহ সমগ্র মুখমন্ডল ফুলে যাওয়া
- রোগীর শ্বাসকস্ট হওয়া, নিশ্বাসের সাথে শো শো শব্দ করা
- গলার স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া
- কাশি অথবা থুতুর সাথে কালো ময়লা যাওয়া, জিহবা কালো হয়ে যাওয়া
এ সমস্ত লক্ষন দেখা দিলে মোটামুটি ধরে নেয়া যায় যে রোগীর শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং বিলম্ব না করে দ্রুত চিকিতসা শুরু করে দিতে হয়।
রোগী মৃত্যুর কারণঃ
বদ্ধ স্থানে আগুন লাগার ফলে সেখান থেকে দ্রুত বের হতে না পারলে একদিকে যেমন রোগীর চামড়া আগুনে পুড়ে যায়, অন্যদিকে নিশ্বাসের সাথে আগুনে সৃষ্ট গরম ধোঁয়া শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে শ্বাসনালী পুড়িয়ে ফেলে। পাশা পাশি বদ্ধ স্থানে আগুন লাগার ফলে সেখান কার অক্সিজেন খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড এর আধিক্য দেখা দেয়। এ ছাড়া কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড ইত্যাদি বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয় যা নিশ্বাসের সাথে ভেতরে প্রবেশ করে জটিলতা সৃষ্টি করে এর ফলে রোগীর মৃত্যু ঘটে থাকে।
চিকিতসাঃ
এ ধরনের রোগীকে খুব দ্রুত বার্ণ ইউনিট আছে এরকম হাসপাতালে নিতে হবে। একদম শুরুর দিকে চিকিতসা শুরু করতে পারলে রোগীর বেচে যাওয়ায় সম্ভবনা অনেক বেড়ে যায়। উপরে যে লক্ষন গুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলো দেখা দিতে একটু সময় লাগে এবং সব রোগীর ক্ষেত্রে সব লক্ষন নাও দেখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অধিক সতর্কতা যেমন মুখ মন্ডল পুড়ে গেলে বা মাথার চুল, আই ব্রো ইত্যাদি পুড়ে গেলে, রোগীর অন্যান্য লক্ষন না থাকলেও সতর্কতার সাথে চিকিতসা শুরু করতে হবে।
প্রতিকারঃ
অগ্নিকান্ডের ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারাই এর সব চেয়ে বড় প্রতিকার। এজন্য সব সময় সাবধানতা অবলম্বন জরুরী। বিশেষ করে আবদ্ধ কোন স্থানে কাজ করার সময় চোখ কান খোলা রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ নিম্নরূপ-
১। দীর্ঘদিন দরজা জানলা বন্ধ থাকা ঘরে আগুন না জ্বালানো। এ ক্ষেত্রে আগে দরজা জানলা খুলে দিয়ে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক হলে পরে প্রয়োজন মত আগুন জালানো উচিত।
২। রেস্তুরেন্ট্ শপিং মল, শিক্ষা প্রতিস্থান, হাসপাতাল কিনবা কর্মস্থলে পর্জাপ্ত অগ্নি নিরপাবক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ইমার্জেন্সির জন্য আলাদা বহির্গমন পথের সুযোগ রাখা
২। বাসাবাড়ি, কলকারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার, কেমিকেল বা তেলের ব্যারেল ইত্যাদি নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখা এবং আগুন আছে এরকম স্থান থেকে দূরে যথাযথ স্থানে সংরক্ষণ করা
৩। ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্জায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
৪। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি করা